চীনের সৌরবিদ্যুৎ ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ১ টেরাওয়াট (টিডব্লিউ) অতিক্রম করেছে, যা দেশটির পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে দ্রুত অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ স্থাপিত সৌরক্ষমতা ১.০৮ টিডব্লিউ (১,০৮০ গিগাওয়াট) পৌঁছেছে—যা আগের বছরের তুলনায় ৫৬.৯% বেশি।

এই অর্জন এসেছে রেকর্ড গড়া স্থাপন গতির পরিপ্রেক্ষিতে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে চীন ১৯৭.৮৫ গিগাওয়াট নতুন সৌরক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৮৮% বেশি। শুধুমাত্র মে মাসেই ৯২.৯২ গিগাওয়াট স্থাপন করা হয়েছে, যা এপ্রিলের তুলনায় ১০৫% বেশি এবং এটিই এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ মাসিক পরিমাণ।
এনইএ জানিয়েছে, চীনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ৩.৬১ টিডব্লিউ, যা বছরে ১৮.৮% বেড়েছে এবং এ প্রবৃদ্ধিতে সৌরশক্তি শীর্ষে রয়েছে। বিশ্লেষকরা এই উল্লম্ফনকে সরকারি সহায়ক নীতি—যার মধ্যে রয়েছে বিতরণকৃত সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রণোদনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিদ্যুৎ বাজারে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়ার নতুন ব্যবস্থা—এর জন্য দায়ী করেছেন। এসব কারণ ডেভেলপারদের ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাশিত নীতি সমন্বয়ের আগেই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
চীনের সৌরশক্তি যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে, যখন গোল্ডেন সান প্রোগ্রাম দেশটিকে প্রথম ১ গিগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে, যা এর বিতরণকৃত সৌর খাতের ভিত্তি তৈরি করে। ২০১১–২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সাথে বাণিজ্য বিরোধের পর বেইজিং অভ্যন্তরীণ সহায়তার দিকে মনোযোগ দেয়, যার ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিক স্কেলের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটে এবং ২০১৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ক্ষমতা ১০ গিগাওয়াটে পৌঁছে যায়।
টপ রানার প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগগুলো এ অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করে, যা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেয়। ২০১৭ সালের জুন নাগাদ চীনের স্থাপিত সৌরক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়—মাত্র চার বছরে দশগুণ বৃদ্ধি। এখন, আট বছর পর, চীন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১ টেরাওয়াট সৌরক্ষমতায় পৌঁছেছে, যা সৌরশক্তিতে বৈশ্বিক নেতা হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নীতি-চালিত প্রবৃদ্ধির বর্তমান ঢেউ কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে স্থাপনের গতি ধীর হতে পারে। বেশ কয়েকজন বাজার বিশ্লেষক আরও রক্ষণশীল পূর্বাভাস দিয়েছেন, কারণ খাতটি নতুন নীতিগত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর সময় চাহিদা শীতল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।